ইজরায়েল · নির্বাচন ২০২৬
ইজরায়েলে ভোটের দু'দিন আগে তেল আভিভে পরমাণু বিস্ফোরণের AI ছবি পোস্ট নেতানিয়াহুর
ট্রাম্পের বাকি দু'বছরে "ইরানে কাজ শেষ করা"-র ডাক শেয়ার, বিরোধীদের অভিযোগ আতঙ্ক ছড়ানোর

ইজরায়েলে ভোটের দু'দিন আগে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তাঁর প্রচারের কেন্দ্রে বসিয়ে দিয়েছেন একটি পারমাণবিক মেঘ। ২৫ অক্টোবর ২০২৬ তিনি তেল আভিভের উপর পারমাণবিক বিস্ফোরণের একটি AI-তৈরি ছবি পোস্ট করেন, যেখানে ঘনবসতিপূর্ণ শহরের উপর উঠে আসা বিশাল মেঘের নীচে বাড়িগুলি আগুনে ঢেকে যেতে দেখা যায়।
NDTV-র খবর অনুযায়ী, ছবির সঙ্গে নেতানিয়াহু ইজরায়েলি লেখক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ইউভাল ব্লুমবার্গের একটি বিবৃতি শেয়ার করেন। তার বার্তা স্পষ্ট: একমাত্র ইরানই আসল বিষয়, আর তার মোকাবিলায় ইজরায়েলের হাতে সময় ফুরিয়ে আসছে।
"ইরানে কাজ শেষ করতে হবে"
বিবৃতিতে বলা হয়, "ইজরায়েল রাষ্ট্র বাস্তব ও প্রত্যক্ষ অস্তিত্বের সঙ্কটে। ইরানিরা পারমাণবিক অস্ত্র পেলে আর কিছুই আগের মতো থাকবে না।"
অন্য বিতর্কগুলিকে সেখানে "সাজানো ও বানানো ঝড়" বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়, যার উদ্দেশ্য তার ভাষায় "ইরানে কাজ শেষ করা" থেকে নজর ঘোরানো। আর কাজটির জন্য সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়: "ইরানে কাজ শেষ করতে আমাদের হাতে ট্রাম্পের আরও দু'বছর আছে, তার পরে কী হবে কেউ জানে না।" সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে কমলা হ্যারিসের নাম করা হয় এবং বলা হয়, "এই মিশনে রাষ্ট্রের সব প্রয়োজনীয় সম্পদ ঢালতে হবে।"
বার্তাটি সোজা। নেতানিয়াহু ভোটারদের বলছেন, একটিমাত্র অস্তিত্বের সঙ্কটের নিরিখে এই নির্বাচনের বিচার করুন, আর তাঁকে দেখুন এমন নেতা হিসেবে, যিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাকি মেয়াদ কাজে লাগিয়ে সেই সঙ্কট দূর করতে পারেন।
বিরোধীদের অভিযোগ, আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে
কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা আক্রমণে নামে বিরোধীরা। ডেমোক্র্যাটসের চেয়ারম্যান ইয়াইর গোলান বলেন, প্রধানমন্ত্রী "তেল আভিভের উপর পরমাণু বোমার ছবি প্রকাশ করেছেন", এবং তাঁকে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে রাখার দাবি জানান। গোলান বলেন, "লোকটি এবং তাঁর আশপাশের লোকজন মাথা ঠিক রাখতে পারছেন না। চাপ বাড়ছে।"
ইয়াশারের চেয়ারম্যান গাদি আইজেনকোট নেতানিয়াহুকে "হিস্টিরিয়াগ্রস্ত" বলে অভিযোগ করেন, এবং বলেন প্রতিটি নির্বাচনের মতো এবারও তিনি "মিথ্যা আর আতঙ্ক ছড়ানোর সেই একই কৌশল" নিয়েছেন।
এই চাপানউতোর দেখিয়ে দেয় ভোটের লড়াইটা কী ভাবে হচ্ছে: নেতানিয়াহু নিরাপত্তা ও ইরান নিয়ে, তাঁর বিরোধীরা তাঁর বিচারবুদ্ধি ও রেকর্ড নিয়ে।
মঙ্গলবার কী নির্ভর করছে
ইজরায়েলে মঙ্গলবার ভোট হবে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে, যেখানে দেশজোড়া ভোটের হিসাবে আসন ভাগ হয়। সরকার গড়তে কোনও দল বা জোটের দরকার নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে ৬১টি। বহুধাবিভক্ত ব্যবস্থায় ইরানকে প্রধান বিষয় করে তোলা আসলে গোটা ভোটের শর্ত ঠিক করে দেওয়ার চেষ্টা।
ভারত কেন নজর রাখছে
নয়াদিল্লির কাছে এই পোস্ট শুধু নির্বাচনী নাটক নয়। "ইরানে কাজ শেষ করা"-র উপর দাঁড়ানো প্রচার, যেখানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাঁধা দু'বছরের স্পষ্ট সময়সীমা আছে, এমন এক অঞ্চলে আরও সংঘাতের ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়, যা সরাসরি ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
Raisina Wire আগেই জানিয়েছে, ভারত তার ব্যবহৃত অপরিশোধিত তেলের সিংহভাগই আমদানি করে, আর উপসাগরের জ্বালানির বড় অংশ যায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়লে তেল, পণ্য পরিবহণ ও বিমার খরচ বাড়তে পারে, টাকার উপর চাপ পড়তে পারে, সরবরাহে সরাসরি আঘাত না লাগলেও।
ভারত দীর্ঘদিন ধরে ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য রেখে চলেছে। ইজরায়েলের পরের সরকার যদি আগামী দু'বছরকে সময়সীমা হিসেবে দেখে, তা হলে সেই ভারসাম্য রাখা কঠিন হতে পারে, আর ভারতের অর্থনৈতিক ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
মঙ্গলবার যে-ই জিতুক, নেতানিয়াহুর ছবি একটা বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে: পরের সরকারের কর্মসূচিতে ইরানই থাকবে সবার উপরে।